ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময় এক নারী

ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময় এক নারী

আব্দুল লতিফ,ঘাটাইল প্রতিনিধি: ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময় অপরিচিত এক নারী । তার প্রকৃত বয়স কত, কোথা থেকে এসেছে, বাড়ি কোথায় তা সবার অজানা। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। রাতের বেলায় ঘুমানোর জন্য সে বেছে নিয়েছে নির্মাণ সংগঠনের বাড়ান্দা। দাঁত নেই, তবুও মুচকি হাসিতে ববিতাকে মন্দ লাগে না। কিন্তু কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। তার এ হাসি-কান্না বড়ই রহস্যময়। এলাকায় সে ববিতা পাগুল্লি হিসেবে পরিচিত। চলচিত্রের ববিতার মতো দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা না থাকলেও এই ববিতার জনপ্রিয়তা রয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে। বাবা মা’র দেওয়া নাম কি! এই ববিতা নামই বা কে দিয়েছে, তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যন্ডে তাকে দিন রাত ঘুড়ে বেড়াতে দেখা যায়।

ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময় এক নারী
ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময় এক নারী

ববিতা সবার অতি পরিচিত মুখ। দিন মুজুর, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ববিতাকে আদর করে নাম ধরে ডাকে। কখনো ডাকে সাড়া দেয় আবার কখনো দেয় না। সবার দেওয়া খাবারও সে খায়না। আবার যাকে ভালো লাগবে তার কাছ থেকে এটা ওটা চেয়ে খায়। খাবার হোটেল গুলোতে তার জন্য সব সময় দরজা খোলা থাকে। কখনো খাবার খেতে গেলে কি যে আদর আপ্যায়ন তা আর বলে শেষ করা যায় না। কারো সাথে কথা তেমন একটা বলেন না। আর যাও দু’ একটা বলে তা বোঝা যায় না। তবে কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। সড়কের দু’ধারের দোকানদার গুলো ববিতাকে অনেক ভালোবাসে। কারো দোকানে গেলে দোকান মালিক তার চেয়ার ছেড়ে দেয় বসার জন্য। যতক্ষণ মন চায় দোকানে বসে থাকে। এর ভিতরে চলে আপ্যায়ন। চা এবং পান এ দুটোই সে বেশি ভালেবাসে। সবাই বলে ববিতা যেদিন দোকানে আসে তাদের বিক্রি নাকি বেড়ে যায়। তাকে সব সময় দেখেন এবং জানেন স্থানীয় মোহাম্মদ আলী জানান, ত্রিশ বছর ধরে সে এই এলাকায় আছে। কোনো দিন তাকে গোসল করতে দেখিনি। অথচ তার কাছে গিয়ে বসলে শরীর থেকে কোনো গন্ধ আসেনা। সে কোনো দিন অসুস্থও হয় না। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। কলেজ মোড় এলাকার জেমি ফার্মেসির মালিক জামাল হোসেন বলেন, তার ভিতরে মনে হয় অলৌকিক কিছু আছে। আমার দোকানের কর্মচারী একদিন চুরি করেছিল যা আমি নিজেও জানতাম না। কোথা থেকে যেন ববিতা এসে সেই কর্মচারীকে জুতা দিয়ে পিটানো শুরু করলো। পরে চুরির বিষয়টি জানতে পারি।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে আমি তাকে এ এলাকায় দেখে আসতেছি। তার ভিতরে অলৌকিক কিছু থাকতে পারে। দোকানদাররা আদর করে ডাকে তাকে দোকানে বসায় আপ্যায়ন করে। আবার সবার দেওয়া খাবার সে খায় না যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে চেয়ে খায়।

পরিচিতি Ibrahim Bhuiyan

এটাও চেক করতে পারেন

ঘাটাইলে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মামাতো ভাই খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ফুফাতো ভাই মিন্টুর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *