
আরিফুজ্জামান (তপু), ভূঞাপুর ,করোনা পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের জীবনযুদ্ধ । যাই হোক না কেন, জীবন থেমে থাকে না।ইংরেজিতে একটি কথা আছে( দ্যা মাস্ট গো অন) বাংলা অর্থ_অবশ্যই যেতে হবে । এই কথা বিশিষ্টজনদের মুখে বারবার শুনলেও এখন প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে সবাই আমরা সম্মুখীন হচ্ছি সেই কঠিন সত্যের (দ্যা মোস্ট গো অন)।
প্রতিটি মানুষের জীবনে একদিকে রয়েছে করোনায় মৃত্যুর ভয়, অন্যদিকে রয়েছে রুটি রুজির টান। রয়েছে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। ভয়কে জয় করার কথা নয়। সব মানুষের এখন জানা হয়ে গিয়েছে বাড়ি থেকে বের হলে হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে, ঘরে বসে থাকলেতো না খেয়ে থাকতে হবে পরিবারের সকলকে। তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্য থেকে শুরু কর বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্যের মুখে দু’বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে বাড়ির নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে করোনার ভয়কে জয় করে জীবন সংগ্রামের যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে সাধারণ দরিদ্র, মধ্যবিত্ব পরিবারের মানুষেরা ।
চিকিৎসকেরা যেখানে বলছেন,সামাজিক দূরত্ব,হাতধোঁয়া,সেনেটাইজ ও মাস্কের কথা। সেখানে কেউ ঠিকভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া তো দূরে থাক এমনি পানি দিয়ে ঠিক ভাবে হাত ধুচ্ছেন না কেউ। আর মাস্ক পরতে বলা হয়েছে যেখানে, সেখানে অ-স্বাস্থ্যকর সাধারণ একটা কাপরের তৈরি মাস্ককে অবলম্বন করেই চলছে প্রতিদিনকার এই জীবনযুদ্ধ । এই কঠিন জীবনযুদ্ধে হার জিত তো পরের কথা। আগেতো পরিবারের মুখে ফোটাতে হবে স্বস্তির হাসি । দূর করতে হবে দারিদ্রতার অভাব।
দীর্ঘ দিন বাংলাদেশে লক-ডাউনের কারনে শেষ হয়ে গিয়েছে জমানো যৎসামান্য পুঁজি। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর পাল্লা দিতে হচ্ছে না খেয়ে থাকার। খিদের জ্বালা কেরে নিয়েছে শিশুর মুখের হাসিও। অচেনা হয়ে পরছে আমাদের চিরচেনা বাংলাদেশ। আস্তে আস্তে ফিরে পাচ্ছে তার স্বাভাবিক ছন্দ ।
তাই সেই স্বাভাবিক জীবন ছন্দের সঙ্গেই চলতে হবে আমরা সাধারণ মানুষের, খিদের জ্বালা মিটিয়ে ফিরাতে হবে শিশুর মুখের হাসি। তাই করোনা আতঙ্ককে পাশে সরিয়ে, নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে সকাল হলেই বেরিয়ে পড়া জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে। কোথাও যেনো মনের মধ্যে জেদ,হারাতে হবে অতি মহামারী করোনা ভাইরাসকে। জিততে হবে আমাদেরকেই। জিতাতে হবে, আমাদের বাঁচার লড়াইকে। জিতাতে হবে, আমাদের বাঁচার সদিচ্ছাকে।


