মো: আব্দুর রহীম মিঞা, ভূঞাপুর : একসময়ের টগ-বগে যুবক এখন মধ্য বয়সী। কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর বিল কাচিনা গ্রামের মো. আব্দুল আজিজের একমাত্র ছেলে আবু হানিফা

। প্রাথমিক বিদ্যালয় পেরিয়ে হাই স্কুল জীবনে পা দিয়ে জড়িয়ে পড়েন নেশার পথে। শুরু করেন গাঁজা সেবন। সেখান থেকেই নেশার জগতে তাঁর হাবুডুবু খাওয়া। শুরু করেন হেরোইন, ইয়াবার মত নেশা দ্রব্য সেবন। খোয়াতে থাকে নগদ অর্থ ও সম্পত্তি, হয়ে যান নিঃস্ব। সকল সম্পত্তি হারিয়ে বেছে নেন কুলির কাজ। এক সময় কুলির কাজ করতে না পেরে ভ্যান চালিয়ে জোগার করেন নেশার টাকা। ভ্যান চালিয়ে যা কিছু রোজগার করেন তা দিয়ে নেশার কাজ চলতো তাঁর। নেশা দ্রব্য সেবনের কারণে ধীরে ধীরে ক্ষতি হতে থাকে মানসিক ও শারীরিক অবস্থার। এ অবস্থায় তাঁর শারীরিক কাজ করার ক্ষমতা কমতে থাকায় নেশার টাকা জোগাড় করতে বেছে নেন মসজিদে মসজিদে সাহায্যের পথ।
আবু হানিফের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় হলেও বেশি সময় কাটান ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। আযানের সময় হলে ঢুকে পড়েন মসজিদে। অন্যান্য মুসল্লিদের সাথে নামাজও আদায় করেন। ফরজ নামাজ শেষ হলেই তিনি দাড়িয়ে সাহায্য চান মুসুল্লিদের কাছে, সুন্নত নামাজ না পড়ে গামছা নিয়ে বসে পড়েন মসজিদের গেটে। নিতে থাকেন নামাজ পড়তে আসা নামাজিদের কাছ থেকে সাহায্যে। এভাবেই চলতে থাকে জোহর, আছর ও মাগরিব এ তিন ওয়াক্তের নামাজের পর ভূঞাপুরের বিভিন্ন মসজিদে তাঁর সাহায্যের কাজ।
শুক্রবার মসজিদ গেটে সাহায্য তোলার সময় কথা হয় আবু হানিফার সাথে। তিনি বলেন, আমি যখন সুস্থ ছিলাম সে সময় ভ্যান-রিক্সা চালাতাম, কুলির কাজও করেছি অনেক। বস্তা টানতে গিয়ে পড়ে স্ট্রোক করে একটা সাইট অবশ হয়। অনেক চিকিৎসার পরেও সুস্থ হইনি। তাই চাইয়া চিন্তা চলতে হয়। একটা বোন আছে সেও প্রতিবন্ধি। আমরা কেহ প্রতিবন্ধি ভাতা পাইনা। আমাগোর মেম্বারের নিকট গেছিলাম ২টা প্রতিবন্ধি কার্ডের নিগা কিন্তু ১৬ হাজার টাকা চাইছে মেম্বার। চেয়ারম্যানের কাছে গিয়াও লাভ হয়নি। এভাবে মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে ঘুরেও আজ পর্যন্ত হয়নি কোন প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড।আবু হানিফা আরো বলেন, জীবনে অনেক পাপ করেছি তো তাই আল্লাহ আমাকে নুলা বানাইছে। আগে কিছুদিন চুরি-ছিনতাই করছি, সে কারণে জেলও খেটেছি। পোলার মাথায় হাত রাইখা তওবা করছি, আর খারাপ কাজ করমুনা, এখন চাইয়া খামু, মানুষের কাছে হাত পাইতা খামু, তাও অন্যায় কাজ আর করমু না।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি পঙ্গু বা নুলা নন। মসজিদে সাহায্যের জন্য যাওয়ার আগে পঙ্গুত্ব বা নুলার ভান করে। নামাজিদের অনুকম্পা ও বেশি সাহায্য পাওয়ার আশায় এমন কাজটি করে থাকে। এ কাজে হানিফাকে সাহায্য করে তাঁর পাশের গ্রাম সিংগুরিয়ার সোনা মিয়ার ছেলে মো. আরিফ। মুসুল্লির কাছ থেকে যে সাহায্য পায় হানিফা সে টাকার অর্ধেক ভাগ নেয় আরিফ।হানিফার পঙ্গুত্ব ও নেশা করা সম্পর্কে আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর সম্পর্কে আমার ভালোভাবে কিছু জানা নাই। সে যে এভাবে টাকা তুলে সে টাকা দিয়ে নেশা করে জানতে চাইলে আরিফ বলেন তা আমার জানাছিল না। আপনি সকল বিষয়ে জেনেও তাকে সাহায্য করছেন জিজ্ঞেস করলে সে থতমথ খেয়ে বলেন আমি তাঁর সঙ্গে আর আসবো না।


