যমুনার চরে ছাগল পালনে ভাগ্য ফিরানোর চেষ্টা জায়েদার

মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা, ভূঞাপুর: নিভূত যমুনার চরের ৩০ বছর বয়সের এক নারী জায়েদা বেগম। তিনি গৃহিনী তার স্বামী এক জন মাছ শিকারী। অভাব-অনটনের সংসার । যমুনার নদীতে মাছ স্বীকার করে তার থেকে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে সংসার চালাবার অদম্য প্রচেষ্টা।

তাদের সংসারে রয়েছে আরো দুই মেয়ে । কোন জমি-জমা নাই। সংসার চলে কিভাবে সারাক্ষন ভাবেন তাই যায়েদা। কোন কোন দিন তার স্বামী মাছ ধরতে না পাইলে দু এক বেলা না খেয়ে থাকতে হয় তার পরিবারের লোকজনকে। সে সময় থেকে জায়েদা ভাবে সংসারে দুমুঠো ভাতের জন্য কি করা যায় । এ ভাবনা থেকেই তার স্বামী আব্দুর রশিদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে একটি গর্ভবতি ছাগল কিনেন গোবিন্দাসী হাট থেকে ৩ বছর আগে। সেই একটি ছাগল থেকে এখন তার ১২ টি ছাগল । অদম্য ইচ্ছামক্তিতে এগিয়ে চলা জায়েদার বাড়ী যমুনায় বিলুপ্ত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কোনাবাড়ী চর এলকায় । তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী । জানা যায় হত-দরিদ্র পিতা-মাতার সংসারে বেশিদূর লেখাপড়া হয়নি জায়েদার। অভাবের সংসার থাকায় অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন তার বাবা-মা। সেখান থেকেই আব্দুর রশিদের সংসারে ঘানি টানতে হয় জায়েদাকে। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা জায়েদা পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ছাগল পালন করে কিভাবে প্রতিষ্ঠত হওয়া যায় এমন স্বপ্নের বিভোর হয়ে স্বামীর সহযোগিতায় প্রতিদিন গোবিন্দাসী থেকে যমুনা পার হয়ে যমুনায় বুকে জেগে উঠা বিশাল চরে ছাগল চড়াতে যান তিনি। প্রচন্ড রোধে ঝড়-বৃষ্টিতে কলা গাছের ছায়ায় বসে সারাদিন ছাগল চড়িয়ে আবার বিকাল হলে ফিরে আসেন গোবিন্দাসী ঘাট এলাকায় তার বাড়িতে। এভাবেই চলে তার যমুনার এপার- ওপার নৌকায় ছাগল নিয়ে বিশাল চরের মাঝে চষে বেড়ানো। জায়েদা তার সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এ ছাগলগুলোকে যতœসহকারে প্রতিপালন করে। এতে করে ইচ্ছে শক্তির কোনো ঘাটতি পড়েনি এতটুকু। প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তিই ছাগল পালন করে ভাগ্য পরিবর্তনের জীবন যুদ্ধে নেমে পরাজিত হতে চান না তিনি। তার ১ টি ছাগল নিয়ে মিনি খামার শুরু হলেও এখন তার ১২ টি ছাগল মিনি খামারে । তার মধ্যে তিনটি ছাগল বাচ্চা দেওয়া সময় হয়েছে বলে জানান জায়েদা বেগম। তার ছাগলগুলো সবই দেশিও বøাকবেঙ্গল জাতের ছাগল । এ ছাগলগুলো থেকে বছরে ৫/৬ করে বাচ্চা পান তিনি । সেখান থেকে প্রতিবছর তিন/চারটি ছাগল বিক্রি করে সংসারের চালিয়ে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন বলে জানান জায়েদা।
ছাগল পালনে তার ইচ্ছা
২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাগল চরানোর সময় সরেজমিনে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান প্রতিদিন সার স্বামীর সহযোগীতায় নৌকায় পার হয়ে যমুনার বুকে জেগে উঠা বিশাল চরে ছাগলগুলো চড়াতে আসি। এ বর্ষার দীর্ঘ সময় যমুনার চরে পানি না থাকায ছাগল পালনে খুবই সুবিধা হচ্ছে । প্রতি বছরই এ সময় বন্যার পানিতে চরা’ল পানিতে ডুবে থাকে সে সময় খুবই কষ্ঠ হয়। এ বৎসর ঝড়-বৃষ্টি কম আর নদীতে পানি নাই বললেই চলে। তিনি আরো বলেন দেশিয় ছাগল বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। এদের রোগ-বাইলও কম হয়। অল্প খরচে আয়ও বেশি হয়।
ভূঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় গরিব সহায় মানুষের ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করার বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা স্বপন দেবনাথ জানান এ এলকায় পতিত জমি না থাকায় খুব একটা ছাগলের খামার গড়ে উঠেনি। পারিবারিকভাবে- দু’চারটি ছাগল অনেকেই পুষে থাকে । তবে বাণিজ্যিকবাবে কেহ ছাগল পালন করলে প্রচুর লাভবান হতে পারে। আর আমাদের দেশে দেশিও ছাগলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

পরিচিতি Ibrahim Bhuiyan

এটাও চেক করতে পারেন

ভূঞাপুরে কুকুরের কামড়ে নারী শিশুসহ ১৬ জন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাগলা কুকুরে কামড়ে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আহত হয়েছে। এদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *