মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা:-
এক সময় গ্রামবাংলার ভোর ছিল সজীব, প্রাণবন্ত। কুয়াশা ভেজা আকাশের নিচে দূর থেকে ভেসে আসত মোরগের ডাক।
সেই ডাকে ঘুম ভাঙত মানুষের, জাগত মাঠ-ঘাট, উঠান আর খামার। মোরগের ডাকেই শুরু হতো দিনের প্রথম গল্প। কালের বিবর্তনে আজ সেই দৃশ্য বদলে গেছে। ভোর আসে ঠিকই, কিন্তু আর আগের মতো প্রাণ নিয়ে নয়। এখন আর গ্রামেও খুব একটা শোনা যায় না মোরগের ডাক। যান্ত্রিক জীবনের তাড়নায় মানুষ ভুলে গেছে প্রকৃতির সেই সহজ অথচ গভীর আহ্বান।
আগে ঘড়ি ছিল না, অ্যালার্ম ছিল না—ছিল শুধু প্রকৃতির ছন্দ। মোরগের ডাক ছিল সময়ের সংকেত, জীবনের ছন্দ। কৃষকের লাঙল, গৃহিণীর চুলা, শিক্ষার্থীর বই সবকিছুই যেন সেই ডাকে সাড়া দিত। আজ নগরায়নের প্রভাব গ্রামকেও গ্রাস করেছে। আঙিনার হাঁস-মুরগি হারিয়ে গেছে, খোলা উঠান বদলে গেছে পাকা দালানে। বাজারনির্ভর জীবন আর ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক একটি অধ্যায়।
বর্তমানে প্রবীণদের চোখে সেই স্মৃতি এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস। তারা বলেন, “ভোরে মোরগের ডাক না শুনলে দিনটাই যেন অসম্পূর্ণ লাগে।” অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে মোরগের ডাক এক অচেনা অনুভূতি তাদের ভোর শুরু হয় মোবাইল ফোনের অ্যালার্মে।
মোরগের ডাকের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক। নীরব এই প্রভাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় উন্নয়নের নামে আমরা হয়তো অনেক কিছু পাচ্ছি, কিন্তু হারাচ্ছি আরও বেশি। এক কালে যে মোরগের ডাকে ভাঙত প্রভাত, আজ তা কেবল স্মৃতির পাতায় বন্দী। গ্রামবাংলার সেই চেনা ভোর এখন শুধুই অতীত।


