মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা (টাঙ্গাইল) ভূঞাপুর ঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের আয়োজনে মাইজবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেমাদারীয়া,ঝনঝনিয়া, ঘোনাপাড়া, দিঘুলিয়াপাড়া, ঢেপাকান্দি গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সম্বন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ইরি ধানের চারা উৎপাদন ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা লাগানো সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্বন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার না করে শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ উপলক্ষে গত ১৭ ফ্রেরুয়ারী’২০২২ বৃহস্পতিবার মাইজবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জমিতে সার প্রয়োগ ও চারা লাগানো সম্বন্বিত ব্যবস্থাপনার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সনাতন প্রদ্ধতির পরিবর্তে কৃষিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বাস্তবায়নের প্রদর্শনী দেওয়া হয়। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সনাতন প্রদ্ধতির পরিবর্তে কৃষিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে ৩০ জন কৃষকের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রতিজন ৫০০, দুপুরের খাবার ৩০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা-২৫০ টাকা, চা-নাস্তা ৪০ টাকা, প্রশিক্ষণ সামগ্রী ৮০ টাকা, জমির যৌথ সার ব্যবহারের জন্য জমির মালিক ১’শ কৃষকের মাঝে ৩ শত টাকা, আপ্পায়নে ৫০ টাকা, ৫০ একর জমিতে বীজ সহায়তায় ৮০ টাকা কেজি মূল্যের ৭৫০ কেজি সার বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে চারা লাগানোর জন্য ট্রেতে চারা গজানো হয়। ১’শ কৃষককে যান্ত্রীকরণের মাধ্যমে ইরি ধান লাগানোর জন্য উৎসাহিত করার কথা থাকলেও মাত্র ৬ জন কৃষকে ৩০ কেজি করে সার প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাইজবাড়ী মৌজার ৫০ একর জমিতে কৃষি যান্ত্রিকিকরণের (রাইস ট্রান্সপ্লানটা) মাধ্যমে রোপা ধানের চারা লাগানো কথা থাকলেও মাত্র ০.২০ শতাংশ জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। ঝনঝনিয়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী খান জানান প্রশিক্ষন শেষে ৩০ কেজি গুটি সার দেওয়া হয়েছে আর কিছুই আমরা পাই নাই। মেশিন দিয়ে ধান লাগানো ২০ শতাংশ ক্ষেত পূণরায় কামলা দিয়ে রোপা লাগানো হয়েছে । কৃষি অফিস থেকে যে ধান লাগানো হচ্ছিল তা এত ছোট মেশিনে লাগানোর সাথে সাথে কাঁদায় ঢেকে যেত আর কোন খেতে রোপা ধান লাগানো হয় নাই। আলোচনা সভা শেষে যন্ত্রের মাধ্যমে চারা লাগানোর প্রর্দশনী দিয়ে সবাই চলে যায়। কৃষক সুলতান খান বলেন, “আমার ৭৫ শতাংশ জমিতে রোপা ধান লাগানোর কথা থাকলেও আমি নিজের কামলা, সার, বীজ দিয়েই তা করেছি। আমি কৃষি অফিসের কোন সহযোগিতা পাই নাই।” মাইজবাড়ীর আব্দুর কাদের বলেন,“এখানে মিটিং হয়েছে একটি ধান লাগালো মেশিন দেখেছি কিন্ত ধান লাগাইছে কিনা তা আমি জানিনা। আর প্রশিক্ষনের টাকা , সার বীজ দেওয়ার কথা আমার জানা নাই।ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, এখানে কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষন হয়েছে। ধান রোপনের মেশিন দিয়ে রোপন করেছে। কিন্ত কত বিঘা ধান লাগানোর কথা, প্রশিক্ষন ভাতা দেওয়ার কথা কিনা তা আমি জানিনা তবে কয়েক জন কৃষককে সার দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল তাই আমি ওখানে গিয়েছিলাম । এত কিছু আমাকে বলে নাই , আমিও জানিনা। তবে আমাকে ৩ শত টাকা দেওয়া হয়েছে।এদিকে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ জানান,প্রকল্পটি ছিল ফলদা দিগুলিয়া পাড়ার, কিন্ত সেখানে আগেই রোপা লাগানো শেষ হওয়ায় মাইজবাড়ী মৌজায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। আর কিছু আমি বলতে পারবো না অফিসে গিয়ে স্যারের সাথে কথা বলে সব কিছু জেনে নিয়েন।ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ন কবীর বলেন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষিতে আধুনিকায়ন ও শারিরিক পরিশ্রম দূর করার জন্য কৃষিতে যান্ত্রিকিকরণ করার চেষ্টা করছে। আর মাইজ বাড়ী মৌজায় কৃষকের মাঝে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে এ প্রশিক্ষন প্রকল্প আমার পূর্বের অফিসারের সময়কার। এ প্রকল্পের কাজ দিগুলিয়ার মাঠে হওয়ার কথা ছিল তিনি চলে যাওয়ায় কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় মাইজবাড়ী মৌজায় করা হয়। এ মাঠে সরিষার আবাদ থাকায় তা সময় মতো করা সম্ভব হয় নাই। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ন কবীর কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন “১ শ” কৃষককে ৩ শত টাকা করে প্রশিক্ষন ভাতা ও অন্যান্য উপকরণ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।”


