নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনার চরাঞ্চলে অভিভাবকদের কাজের চাপে অকালে ঝড়ে পড়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। স্কুল ছুটির পর সংসারের বিভিন্ন কাজে লাগায় কোমলমতি স্কুল পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও অভিভাবকদের সাংসারিক কাজের চাপে স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ে চরাঞ্চলের অনেক শিশু শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয় অনেক শিশু।

বিকেল বেলা যেসব শিশুরা হাতে ব্যাট বল নিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলা-ধুলা করার কথা ঠিক সে সময়ে এসব শিশু শিক্ষার্থীরা কাজ করে ক্ষেত-খামারে। স্কুল শেষে বই, খাতা, কলম পড়ার টেবিলে রেখে হাতে কাস্তে ও কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে নেমে পড়ে কৃষি কাজসহ অন্যান্য কাজে। যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের গাবসারা, রুলীপাড়া, রেহাইগাবসারা, সরইপাড়া, কালিপুর, পুংলীপাড়া, গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে চরাঞ্চলগুলোতে স্কুল পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীদের কাজ করার এমন চিত্র দেখা যায়।
যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে ধুঁ-ধুঁঁ বালু চরে বিস্তীর্ণ দ্বীপে পরিণিত হয়েছে। বর্তমানে জেগে ওঠা চরগুলোতে
বিভিন্ন ধরণের রবি ফসলের এক বিশাল সমারোহ। রয়েছে গবাদি পশুর চড়ানোর সবুজের
নীলা ভূমি। এসব চরে স্কুলে পড়াশুনার পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীরা কেউ ঘাস
কাটছে, কেউ ফসলের আগাছা পরিষ্কার করছে, কেউ গরু, ছাগল ও ভেড়া চড়াচ্ছে, আবার
কেউ কেউ ঘোড়া গাড়ি চালিয়ে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত সময় পার করছে
শিক্ষার্থীরা।
চরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আলহাজ, রমজান, হাসানসহ বেশ কয়েকজনের জানায়, “সকাল ঘুম থেকে উঠেই গরুর খের (খড়) কাটতে কাটতে অনেক বেলা হয়ে যায়। ৯টার দিকে স্কুলে যাই, ১০ টায় ক্লাস শুরু হয়। বাড়িতে এসেই আবার কাজে লেগে যাই। কাজের চাপে পড়ার সময় পাই না। কিন্তু আমাদেরও মনে জাগে সব সময় পড়াশনা করে বড় হতে।
৪র্থ শ্রেণির ছাত্র শুভ জানায়, “বাড়িতে মেলা কাম। স্কুলে যা পড়ি তাই। বাড়িতে গেলে কাজ করতে হয়, তাই পড়তে পারি না। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়- শিশু শ্রমের 60% কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে শিশুরা।
চরাঞ্চলে স্কুলগুলোর কর্মরত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলগুলোতে শ্রেণি ও সিডিউল অনুযায়ী পাঠদান করানো হয় এবং ছুটি দেয়া হয়। চরে যাতায়াতের অনেক সমস্যা। যার কারণে অনেক সময় সঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছা সম্ভব হয় না।
উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরীন পারভীন বলেন, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানউন্নয়নে কোমলমতি শিশুদের পড়াশনায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


