শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভূঞাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে তিনজনকে জরিমানা ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে ধরা পড়েছে ৩৩ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছ মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার গ্রেফতার-১ ভূঞাপুরে জুলাই যোদ্ধা ও ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য হাছানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার ভূঞাপুরে তিন মাদকসেবীকে চার মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘাটাইল লোকেরপাড়া আলহাজ্ব হাফেজ শায়খ আনিসুর রহমান খান(রাহি:) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া ও নুরানী শিক্ষার্থীদের ছবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অবশেষে বদলি করা হলো  সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়া সেই পরিদর্শকাকে ভূঞাপুর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে পোস্ট সংবাদকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূঞাপুরে একটি ট্রাকভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ভূঞাপুরে যমুনায় অনুমোদনবিহীনভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনকে ৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড
ভূঞাপুরে বিদ্যালয় ভবন না থাকায় গোয়াল ঘরে দেয়া হচ্ছেপাঠদান
/ ৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২০, ৮:৫৬ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :ভূঞাপুরে বিদ্যালয় ভবন না থাকায় গোয়াল ঘরে দেয়া হচ্ছে পাঠদান । সারা দেশে নতুন বছরে নতুন বই পেয়ে খুশির ঝিঁলিক খুদে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে। একেতো নতুন শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার আনন্দ, তার মধ্যে হাতে রঙিন মলাটের ঝকঝকে নতুন বই। যা আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু এ সব কোন কিছুরই ছোঁয়া লাগেনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সকল আমেজ উদ্দিপনা ম্লান করে দিয়েছে সর্বগ্রাসী যমুনা। শুধু বিদ্যালয় ঘর, মাঠ, পড়ার আঙিনায়ই কেঁড়ে নেয়নি, সেই সাথে কেঁড়ে নিয়েছে কোমলমতি শিশুদের স্বপ্নও। ঘর হারা মাঠ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গোয়াল ঘরের ছাত্র-ছাত্রী বলে উপহাসের পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দিন দিন ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়েছে কয়েকবার। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয় এ গ্রামটিতে। ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়ে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট দুইটি টিনসেট ঘর বিলীন হয়ে যায়। যমুনার থাবা থেকে রক্ষার জন্য ঘরগুলো ভেঙ্গে-চুড়ে রাস্তার উপর স্তুপ করে রেখে দেয় স্থানীয়রা। কোথাও ঘর স্থাপনের জায়গা না পেয়ে দুই বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম-নৈশ্য প্রহরীর বাড়ীর পরিত্যাক্ত ঘরে চলছে পাঠদান। তার থাকার ঘরের একাংশে রাখা হয়েছে অফিসিয়াল কাগজপত্র। খোলা আকাশের নিচে স্তুপ করে রাখা হয়েছে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ। ফলে ক্রমশই ঝড়ে পড়ছে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। গত দুই বছরে ঝড়ে পড়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে শিক্ষার্থী।

এ দিকে বিদ্যালয় ঘর নির্মাণের জায়গা ও সরকারি কোন অনুদান না পাওয়াতে স্তুপ করে রাখা ঘরের টিন-কাঠ ও আসবাবপত্র অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী ৮ শতাংশ জায়গা দান করেছেন। সেখানে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে জোড়াতালি দিয়ে একটি ঘর উঠালেও মাটি ভরাট না করায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয় দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী খন্দকার মাসুদুর রহমান বলেন, স্কুলের মায়া ছাড়তে পারি না। আমার বাড়ীর গোয়াল ঘরটি ক্লাশ করার জন্য আপাতত দিয়েছি। সেখানেই ক্লাশ চলছে। আমার থাকার ঘরের একাংশে অফিস হিসেবে ব্যাবহার করছে। এ ছাড়া ঘর উঠানোর জন্য আমি ৮ শতাংশ জমি দান করেছি।

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমা বলে, ছেলে মেয়েরা আমাদের ভাঙা স্কুলের ছাত্র বলে ডাকে। খুব লজ্জা লাগে। তাই মাঝে মধ্যে স্কুলে আসি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মনিরা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের কোন ঘর না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। অফিসিয়াল কাগজপত্র রাখার জায়গাও নেই। সামান্য বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন জানান, সম্প্রতি রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখানে কোন ঘর না থাকার কারণে সংস্কার বাবদ বরাদ্দকৃত টাকা নতুন ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়ার বিধান না থাকায় ফেরৎ দেয়া হয়েছে ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page