ভূঞাপুর আ’লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিগত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এ কোন্দলকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ ও নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের মধ্যে এ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ লাভ করেছে। তাদের কর্মী সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি দুজনকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।

জানা যায়, বিগত নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে জয় লাভ করেন। নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধরণ সম্পাদক ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মতিন সরকার অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুল হক মাসুদের গোপন সমর্থন নিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন।বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে গত সোমবার (২২ আগস্ট) ১নং পুনর্বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানারে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ও তার সমর্থকরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

অপরদিকে, দলের ভেতর কোন্দল সৃষ্টি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদকে বিতর্কিত করার অভিযোগে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দি এলাকায় নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়।আর এ পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার বলেন, আমি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুল হক মাসুদ আমার জন্য কাজ না করে দল থেকে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদকে গোপনে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে জয় লাভে ভূমিকা রাখেন। এ জন্য আমি তার বহিষ্কার দাবি জানিয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে দীর্ঘদিন জেল জুলুম খেটেছি। দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলকে সু-সংগঠিত রেখেছি। তিনবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। ইউপি নির্বাচনে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আব্দুল মতিন সরকার তার ব্যক্তিগত কাজকর্ম ও আচরণের কারণে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। তার এ পরাজয়ে আমার কোন ভূমিকা নেই।

পরিচিতি Ibrahim Bhuiyan

এটাও চেক করতে পারেন

বাসাইলে কাভার্ডভ্যান- প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত -২ আহত- ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *