নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে পৌর ও গ্রাম এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হনুমান ও বানর খাবারের খোজে গাছে গাছে ঘুরছ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানাযায়,বনাঞ্চলে খাদ্য সংকট তীব্র হওয়ায় লোকালয়ে নেমে এসেছে হনুমান ও বানর। হঠাৎ করেই গ্রাম ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিচরণে সৃষ্টি হয়েছে বেড়েছে আতঙ্ক ও কৌতূহল।
হঠাৎ করে ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনীয়া গ্রামের দোলোয়ার কাজীর বাহির বাড়িতে লম্বা লেজ ওয়ালা একটি হনুমান ঘুরছে। উৎছুক লোকজন দেখতে আসায় লাফিয়ে লাফিয়ে এগাছ থেকে ওগাছে ছুটছে হুনুমান নামক প্রাণীটি। মানুষের কৌতূহলী চোখ তার মাঝেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক কঠিন বাস্তবতা।খাবারের অভাবে বন ছেড়ে লোকালয়ে নেমে এসেছে বন্য প্রাণী। এর আগেও পৌরসভার ঘাটান্দী, ফসল আন্দী ভূঞাপুর বাজার এলাকায় এরকম দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক হনুমান ও বানর বাড়ির ফলমূল ও সংরক্ষিত খাদ্য নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ীর মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে রাতের আধারে ঘরে হানা দিচ্ছে বানর ও হনুমান।
ঝনঝনীয়ার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, “বনে খাবার না পেয়ে ওরা হয়তো লোকালয়ে আসছে ।তবে মানুষের মাঝে ভয় আর আতঙ্ক কাজ করছে। আবার ওদেরকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আনন্দও লাগছে। স্থানীয়দের কাছে এটি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি ভীতিকরও।
পরিবেশ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বিচারে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। বনভূমি ধ্বংসের প্রভাব এখন সরাসরি জনবসতিতে এসে পড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
খাবারের অভাবে লোকালয়ে হনুমানের আগমন কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি পরিবেশ সংকটের এক স্পষ্ট বার্তা।খাবারের সংকট ও বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় হনুমানের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।
বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক খাবারের উৎস হ্রাস পাচ্ছে। ফলমূল ও গাছপালা কমে যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে এসব প্রাণী।বনাঞ্চলে শিকারি বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণে তারা তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা খুঁজছে।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দূরত্ব যত বাড়ছে, ততই সংকুচিত হচ্ছে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল। একসময় যে বনে ফলের প্রাচুর্য ছিল, আজ সেখানে গাছের সংখ্যা কমে এসেছে। উন্নয়ন, বসতি সম্প্রসারণ আর নির্বিচারে বন উজাড় সব মিলিয়ে হনুমানের স্বাভাবিক খাদ্যচক্রে নেমে এসেছে বিপর্যয়।
ক্ষুধা বড় নির্মম বাস্তবতা। পেটের তাগিদে তাই বনহারা এই প্রাণীগুলো বাধ্য হচ্ছে মানুষের দরজায় কড়া নাড়তে।
লোকালয়ে আসা হনুমান কখনো শান্ত, কখনো আতঙ্কিত। মানুষ যদি তাদের তাড়ায় বা আঘাত করে, তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। আবার অনেকেই মায়ায় পড়ে খাবার দিয়ে অভ্যস্ত করে তোলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের এক স্পষ্ট সংকেত যেখানে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব এসে পড়ে আমাদের উঠোনেই। হনুমানের লোকালয়ে আগমন কেবল একটি সংবাদ নয় এটি প্রকৃতির নিঃশব্দ প্রতিবাদ।
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কটা শত্রুতার নয় সহাবস্থানের।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে বন সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস পুনরুদ্ধার জরুরি। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন। পরিবেশ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বিচারে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। বনভূমি ধ্বংসের প্রভাব এখন সরাসরি জনবসতিতে এসে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুরের প্রশাসনের পরামর্শ বন্যপ্রাণীকে উত্ত্যক্ত না করে নিরাপদ


