আনোয়ার হোসেন বকুল
একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি। সর্বদাই আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের কর্মকাÐকে মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। এমনই একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন শামসুল হক তালুকদার ছানু।

তিনি ভূঞাপুরে জন্মগ্রহণ করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। কর্মগুণে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। ইউনিয়নপরিষদের চেয়ারম্যান থেকে প্রতিভাজোড়ে তিনি মফস্বলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিলেন। গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অবদান রাখেন জাতীয় রাজনীতিতে। এখানেই তাঁর কৃতিত্ব। ভূঞাপুরের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছিল তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। হাজার হাজার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক তুল্য। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞা ও কর্মোদ্দীপনার যে সমন্বয় ঘটেছিল সচরাচর তা দেখা যায় না। জীবনের শেষদিকে শারীরিকভাবে অসমর্থ হলেও ভূঞাপুরের নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন। শামসুল হক তালুকদার পরিণত বয়সেই মৃত্যুবরণ করলেন। তবে তাঁর মৃত্যু ভূঞাপুরবাসীর জন্য যে অভিভাবকশূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কবে পূরণ হবে কে জানে?
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় শামসুল হক তালুকদারের ভাগ্নে ছাউদুর রহমান ওরফে হিরু স্যারের ফোন। রিসিভ করতেই ও-প্রান্ত থেকে জানালেন- বকুল একটা দুঃসংবাদ। কেন, কি হয়েছে?আমার কথার প্রতিউত্তরে এবার সে ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছানু মামা (শামসুল হক তালুকদার) মারা গেছেন। এরপর সাংবাদিক ও আইনজীবী বিষ্ণু প্রিয় দীপ, নবীন সাংবাদিক শফিউর রহমান তালুকদারসহ অনেকেই জানান শামসুল হক তালুকদারের চিরবিদায়ের সংবাদ। শুনে মনটা বিষণœ হয়ে গেল।আকাশের দিকে তাকালাম। ভালো করে দেখার চেষ্টা করলাম, আজকের তারাগুলি কি অন্য দিনের চেয়ে উজ্জ্বল?নাকি ¤øান? বুঝতে পারলাম না। হারিয়ে গেলাম অতীতে। কত কথা মনে পড়লো। এক ধরনের শূন্যতা আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললো। মনে হলো শামসুল হক তালুকদারের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে ভূঞাপুরের রাজনীতির একটা ধারার পরিসমাপ্তিঘটলো।
সময়ের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক তালুকদার ছানু ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাদারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছামান আলী তালুকদার। মাতা হাজেরা বেগম। তাঁর বাবা ছামান আলী তালুদার ফলদা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে তাঁর পরিচিতি ছিল। সে কারণে শামসুল হক তালুকদার ছোটবেলা থেকেই জনসেবায় মনোনিবেশ করেন। অন্যের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকতে ভালোবাসতেন তিনি। তৃপ্তি খুঁজে পেতেন সেখানেই। এক মুহূর্তের জন্যেও তিনি ভুলে যেতেন না তাঁর সামাজিক দায়িত্বের কথা।
জননন্দিত এই নেতা ১৯৭৩ ও ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে পর পর দুই বার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৫ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ হতে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ তিনি টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ হতে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন বড় মাপের একজন রাজনীতিক। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর, বর্তমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি. এম. কাদের, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ জাতীয় পার্টির অনেক কেন্দ্রীয় নেতার সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের তিন তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু তার বড়ভাই শামসুল হক তালুকদার সম্পর্কেবলেন- ‘তাকে সব সময় গরিব-দুখি মানুষের কল্যাণ চিন্তায় মুগ্ধ থাকতে দেখেছি। বাংলাদেশের সকল রাজনীতিবিদ যদি তাঁর মতো এমন চিন্তায় মগ্ন হতেন তাহলে অনন্তহীন সম্ভাবনার এই দেশে হাজার বছর ধরে যেসব বঞ্চিত মানুষ বঞ্চনা-নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও আশার ছোট্ট প্রদীপটি সযতেœ লুকিয়ে রেখেছেন মনের মণিকোঠায় তা আরো জ¦লে ওঠবে নিজস্ব মহিমায়।’ সফল এ জনপ্রতিনিধি ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল গ্রামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ধুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কয়েকটি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।
শামসুল হক তালুকদার ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোবাদ হোসেন তালুকদারের কন্যা দিল আফরোজ বেগমের সাথে শুভ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁরা হচ্ছেন- সানিয়া আফরোজ শাপলা, সেলিনা আফরোজ শায়লা ও সুমি আফরোজ শীলা এবং একমাত্র পুত্র মো. আমিনুল হক তালুকদার। এরমধ্যে সেলিনা আফরোজ শায়লা ক’বছর আগে মারা যান।
শামসুল হক তালুকদারের ভাগ্নে আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মুক্তা বলেন- ‘মামার জীবন উৎসর্গকৃত ছিল গণ-মানুষের জন্য। মানুষও তাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এ কারণে তাঁর মৃত্যু হাজার হাজার মানুষ শুধু স্তব্ধ হয়ে থাকেনি, কেঁদেছেন। অনেককেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেছি।’ শোকাহত ভূঞাপুরবাসী শামসুল হক তালুকদারকে নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যা- যে কোন মানুষকে সহজে স্পর্শ করে। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের সমাজে যারা গুণী এবং কীর্তিমান, নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের কর্মকাÐ ও জীবনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের কর্তব্য। কেননা তাঁরা জীবন ব্যয় করেছেন আমাদের জন্য। তাদের স্মরণ করলে সম্মাননা জানালে আমরাই লাভবান হবো সম্মানিত হবো। মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও ছড়াকার মামুন তরফদার বলেন, ‘মণিষীরা বলে গেছেন- যে সমাজে গুণীর কদর নেই, সে সমাজে গুণী ব্যক্তি জন্ম হয় না। শামসুল হক তালুকদার ছিলেন একজন আদর্শবাদী, সদালাপি ও নির্লোভ মানুষ। তাই তাকে সেভাবেই মর্যাদা দেয়া আমাদের দায়িত্ব।’
যৌবন যদি হয় যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তবে শামসুল হক তালুকদার সেই শ্রেষ্ঠ সময়ে শ্রেষ্ঠ কাজটিই করেছিলেন। তিনি ৬৯ এর গণ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এদেশের জনগণের মঙ্গলার্থে কিছু করা উচিত। এ ভাবনাই তাড়িত করে তরুণ শামসুল হককে। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ তাকে বিচলিত করে তোলে। তাইতো তিনি বিলম্ব না করে যোগ দেন গণমানুষের প্রতিরোধ লড়াইয়ে। ভারতে গিয়ে তিনি ৩ মাস ট্রেনিং নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন। শামসুল হক তালুকাদারদের ত্যাগ তীতিক্ষা ও দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রামে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। যুদ্ধকালীন সময় সে প্লাটুন কমান্ডার এবং পরবর্তীতে ভূঞাপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ছিলেন। তিনি বলতেন- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। যা এখনও পূরণ হয়নি। বলতেন- সততা ও স্বচ্ছতার চর্চা করে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এসব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতানা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন- বাংলাদেশে রাজনীতি যখন সুস্থ-স্বাভাবিক কল্যাণমুখী ও সৃজনশীল হয়ে উঠে তা যেন দেখে যেতে পারি। তিনি আক্ষেপ করে বলতেন- কবে চোখে পড়বে সেই সুস্থ রাজনীতির মসৃণ রাজপথের কিনারা?
শামসুল হক তালুকদারের সঙ্গে আমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন আমার বাবা আবুল হোসেন তালুকদার। আব্বার সাথে তাঁর মধুর সম্পর্ক ছিল। সে সময়টা ঠিক মনে নেই। তবে নব্বই-একানব্বই সালের কথা। তখন আমি ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এরপর অনেক জায়গায় তাঁর সাথে দেখা হয়েছে, কিন্তু কথা হয়নি। ৯৩ সালে আমি নবীন সাংবাদিক। মাত্র বছের খানেক হলো এ নেশায় যোগ দিয়েছি। সে সময় আমি তাঁকে একটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। বাসায় যাওয়ার আগে ঠিক করেছিলাম কীভাবে কী বলবো?আমি তাঁর বাসার ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার পাশের খালি চেয়ারটায় এসে বসেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আমার গোছানো সব কথা ভুলে গেলাম। এরইমধ্যে তিনি আমাকে এতটা সহজ করে নিলেন যে আমার বিশ^াস হচ্ছিল না- আমার সামনে বসে থাকা মানুষটা স্বয়ং সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক তালুকদার। আমার জড়তা কেটে গেল। একটা মানুষের হৃদয় কতটা প্রশস্ত কতটা মহৎ আর উদার হলে এমন আচরণ করতে পারে সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। একজন সংসদ সদস্য সময় দিলেন আমার মত একজন নবীন সাংবাদিককে। আজ ভাবলে মনে হয় সেদিনের সেই ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। খুবই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক বলছি এজন্যেই যে, এটা কেবল শামসুল হক তালুকদাররাই পারেন। তাঁর পক্ষেই সম্ভব। কারণ তিনি ধারণ করেছিলেন বিশালতাকে। তিনি পরশ পাথর ছিলেন।
শামসুল হক তালুকদার ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে ফোন করে সে তাঁর অফিসে যেতে বলেন। যথাসময়ে আমি হাজির হই তাঁর অফিসে। সেদিন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তের কথা শুনে আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ি। মনে হলো সমাজের রন্ধে রন্ধে ভালো মানুষগুলো মানুষরূপি নরপশুদের তাড়া খেয়ে চকিত হরিণীর মতো কেবল ন্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। দীর্ঘক্ষণ তাঁর সামনে বসে রইলাম। কথা নেই। নৈশব্দের নীরবতা গ্রাস করেছে চারদিক। আমি শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম- আপনি বললে প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরবো। মনে হলো তিনি যেন এই প্রশ্নের জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন। নিজের সব শক্তি এক করে প্রায় চিৎকার দিয়ে বললেন- হ্যাঁ। তাঁর বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তা কোরবানীর মাঠে তড়পানো জন্তুর আত্মচিৎকারে পরিণত হলো। আমি কি করবো ভেবে না পেয়ে স্তব্ধ বিস্ময়ে বসে থাকলাম। অনেকক্ষণ পরে তিনি শান্ত হলেন। আমি ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি গোচড়ে আনলাম। পূর্বাকাশের বার্তা সম্পাদক বড়ভাই শ্রদ্ধেয় রাশেদ রহমানের সাথে পরামর্শ করে চার পর্বের ধারাবাহিক নিউজ করলাম। শামসুল হক তালুকদার নির্দোষ প্রমাণিত হলেন।
শামসুল হক তালুকদার তাঁর নিকটজনদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছেন। আমাকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়েছেন। সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সহযোগিতায় আমি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সবুজায়ন প্রকল্প বৃক্ষরোপণের কাজ পাই। যা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। কারণ বঙ্গবন্ধু সেতুর দু’পাড়ের বৃক্ষগুলো কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। এ প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন সেতু বিভাগের সচিব সৈয়দ মাগরুব মোর্শেদ। তাঁর সঙ্গে পরিচয় পর্বে আমার ভূয়সী প্রশংসা করেন শামসুল হক তালুকদার। তিনি আমাকে তাঁর এক আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অক্ষুণœ ছিল।
আমি জানি না শামসুল হক তালুকদারের জনসেবা অসাধারণ ছিল কি-না। জানিনা পৃথিবী কতদিন টিকে থাকবে, এও জানি না পৃথিবীতে কত দিন সূর্য ওঠবে, চন্দ্র হাসবে। কিন্তু আমার বিশ^াস শামসুল হক তালুকদারের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার অশ্রæ কোনদিন পৃথিবী ভুলবে না। কোনদিনও না। আজ এই লেখা যখন লিখছি তখন ভীষণ জানতে ইচ্ছে করছে- শামসুল হক তালুকদার, ওপাড়ে আপনি কেমন আছেন?
শামসুল হক তালুকদার আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শ ও জনসেবা আমাদের উৎসাহিত করবে। তিনি বেঁচে থাকবেন যুগে যুগে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে। তিনি ভূঞাপুরের উন্নয়নে যে প্রদীপ জ¦ালিয়ে গেছেন সে প্রদীপের আলোয় আলোকিত পথ বেয়ে এগিয়ে যাবেন আমাদের ভূঞাপুরের জনপ্রতিনিধিরা। তাঁর অনুসারীরা, শুভানুধায়ীরা এবং তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাকে স্মরণ করবে চিরকাল।


