শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভূঞাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে তিনজনকে জরিমানা ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে ধরা পড়েছে ৩৩ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছ মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার গ্রেফতার-১ ভূঞাপুরে জুলাই যোদ্ধা ও ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য হাছানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার ভূঞাপুরে তিন মাদকসেবীকে চার মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘাটাইল লোকেরপাড়া আলহাজ্ব হাফেজ শায়খ আনিসুর রহমান খান(রাহি:) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া ও নুরানী শিক্ষার্থীদের ছবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অবশেষে বদলি করা হলো  সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়া সেই পরিদর্শকাকে ভূঞাপুর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে পোস্ট সংবাদকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূঞাপুরে একটি ট্রাকভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ভূঞাপুরে যমুনায় অনুমোদনবিহীনভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনকে ৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড
ঈদ মৌসুমে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে ধস
/ ৩৪ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২০, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে বড় রকম ধস নেমেছে। কোটি কোটি টাকার শাড়ী কাপড় বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে।

করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে হাজার হাজার তাঁতকল। সাধারণ শ্রমিকরা করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে কর্মস্থল ছেরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও টাঙ্গাইল শাড়ী বিক্রির অন্যতম “করটিয়া হাট” বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে কালিহাতী উপজেলার “জোকার চর হাট”, সদর উপজেলার “বাজিতপুর হাট”। দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে শাড়ীর শোরুম গুলোও বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে বড় রকম এক ধস নেমেছে তাঁত শিল্পে। এসব স্থান থেকেই সপ্তাহে বিক্রি হতো কোটি কোটি টাকার শাড়ী।
তাঁত বোর্ড নিয়ন্ত্রিত জেলার দুটি বেসিক সেন্টারের সূত্র মতে, জেলায় ১ লাখ ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক রয়েছেন। ৪ হাজার ১৫১ জন রয়েছেন ক্ষুদ্র তাঁত মালিক অন্যদিকে শবে বরাতের পর থেকেই টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে শ্রমিকরা দিন-রাত শাড়ী উৎপাদন কাজে ব্যস্ত থাকত। সারাদেশের শাড়ী ক্রেতারা করটিয়া, বাজিতপুর, ও পাথরাইলের শাড়ীর শোরুমগুলো থেকে শাড়ী ক্রয়ের জন্য ভীর জমাত।
সারা বছর ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ানো তাঁত মালিকরা মূলত রমজান মাসেই তাদের উৎপাদিত শাড়ী বিক্রি করে ব্যাংক এনজিওর দেনা পরিশোধ করত। কিন্তু এবার করোনায় যে সংকট তৈরি হয়েছে তাতে করে তাঁত মালিকরা আর ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বেকার হয়েছে পারে হাজার হাজার শ্রমিক। তাঁত মালিকদের ঘরে অবিক্রীত পড়ে আছে কোটি কোটি টাকার শাড়ী।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তাঁত মালিক মমিনুর রহমান বলেন, আমার মোট ৬৩ টি তাঁত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকরা সেখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। করোনার কারণে এখন সব তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকার শাড়ী কাপড় আটকা পরে গেছে। চড়া মৌসুমে তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হল সে ক্ষতির জের টানতে হবে আগামী বছর গুলোতে। এছাড়াও দেনা শোধাবার কোন ব্যবস্থাও নেই আমাদের। নেই কোন সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা। তাঁত মালিক ও সাধারণ শ্রমিকদের বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা ছারা আর কোন উপায় দেখছিনা।
শাড়ী ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন জানান, সারাদেশের শপিং মল ও লোকাল মার্কেট গুলো বন্ধ রয়েছে। শাড়ী ক্রয় ও বিক্রির কোন ব্যবস্থা নেই।
এ ব্যাপারে তাঁত বোর্ড টাঙ্গাইল বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনার প্রভাবে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় তিন হাজার দুস্থ তাঁতিদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
এমন সময়ে তাঁত মালিকদের জন্য আলাদা কোন সরকারি প্রণোদনা না থাকলেও তাঁত মালিকদের সুবিধার্থে ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নুন্যতম ৩০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ কার্যক্রম চালু আছে তাঁতিদের জন্য।
এদিকে সর্বস্তরের তাঁত মালিক ও তাঁতিরা তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তৃণমূল পর্যায়ের তাঁতিদের সাথে কথা বলে সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page