নিজস্ব প্রতিবেদক : ছেলে সাব্বিরের জিম্মিদশার খবর শুনে বাবা হারুন অর রশিদ ও মা সালেহা বেগম কেঁদে কেঁদে বিলাপ করছেন।”আমার বেটারে ফিরিয়ে দাও।”

সাব্বির টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংসারে অভাব-অনটন থাকায় মামার পরিবারের সহযোগিতায় ২০১৪ সালে সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে টাঙ্গাইল এমএম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে।সেখান থেকে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে পণ্যবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাতে ডেক ক্যাডেট হিসেবে চাকরি নেন। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় সাব্বিরের মামার বাড়ি সহবতপুর ইউনিয়নের কাজীর পাচুরিয়া গ্রামের বাড়িতে থাকেন বাবা হারুন অর রশিদ ও মা সালেহা বেগম। সাব্বিরের আয়েই চলে অসুস্থ বাবা ও মায়ের সংসার।
তার মামার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সাব্বিরের বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। তাদের পরিবারে সাব্বিরই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সাব্বিরের বড় বোন মিতু আক্তার বলেন, গত সোমবার বিকেলে ভাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল, বিষুব রেখা অতিক্রম করলাম। সে সর্বশেষ একমাস হয় বাড়ি এসেছিল। একদিন থেকেই চলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর জানার পর থেকে আতঙ্কের মধ্যে আছি। বাবা-মা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা শুধু কাঁদছেন আর বলছেন, আমার ছেলেকে এনে দাও। একমাত্র ভাইয়ের কিছু হলে মা-বাবাকে বাঁচানো যাবে না।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে। আশা করছি, দ্রুতই সুখবর পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছিল।


