নিজস্ব প্রতিবেদক , টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহম্মেদের বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া করে ছেলে শাহ আসিফ কামাল (তৌসিফ) তৈরি করেছেন ৪৬ ফিট লম্বা এক ঘুড়ি (চং)। চংটির দেহের দৈর্ঘ্য ১৬ ফিট, প্রস্থ ১২ ফিট। চংয়ের নিচে কাপড় লাগানো হয়েছে ৩০ ফিট। যা নিয়ে চং ঘুড়িটি দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ ফিট।

তৌসিফের বিশাল এই চংটি নজর কেড়েছে ঘুড়ি প্রেমিকদের। অবাকও করেছে সাধারণ মানুষকে। ঘুড়ি উড়ানোর শখ ও আগ্রহ বেড়েছে অনেকের। তৌসিফের বাড়ি উপজেলার সদরে এবং সে একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
গত এক সপ্তাহ ধরে তৌসিফের সাথে আরও তিনজন শ্রমিক টানা কাজ করে ঘুড়িটি নির্মাণ শেষ করেন। এতে নির্মান খরচ হয়েছে প্রায় দশ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে স্থানীয়রা ধারণা করেছিলেন, এতো বিশাল আকৃতির ঘুড়ি হয়তো আকাশে উড়বে না। তবে দ্বিধা দ্বদ্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেলদুয়ারের আকাশে উড়ল সেই বিশাল আকৃতির ঘুড়িটি।
তৌসিফ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লম্বা সময় ঘরবন্ধী হয়ে অনেকটাই বিরক্ত হচ্ছিলেন তিনি। তার বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিভিন্ন জায়গায় জীবানু নাশক ছেটানো এবং কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেও সময় কাটছিল না। ব্যক্তিগত জীবনটা অনেকটাই বিরক্তে কাটছিল। এমন সময় চারিদেকে ঘুড়ি উড়ানো দেখে দেলদুয়ারের আকাশে সবচেয়ে বড় ঘুড়ি উড়ানোর শখ জাগে তার। যা দেখে সাধারণ মানুষ লকডাউনের মধ্যেও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এরপর থেকেই তৌসিফ শুরু করেন ঘুড়ি তৈরির কাজ।
তৌসিফের বাবা দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তৌসিফ তার সাথে বিভিন্ন সময় সড়কে জীবানুনাশক ছেঁটানোসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অংশ নিয়েছে। লম্বা সময় বাড়িতে থেকে যখন বিরক্ত হচ্ছিল তখন তৌসিফ এই ঘুড়িটি তৈরি করে। ঘরে থেকে মানষিক বিপর্যয়ে পড়তে পারে ভেবে তার এই ধরণের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন বলেও জানান তৌসিফের বাবা ।


