কালিহাতীর চার ও ঘাটাইলের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপণে!

আ: রশিদ তালুকদার: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নে মাদক বিরোধী অভিযানে শনিবার দিনগত রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. রুহুল ওরফে ছোট রুহুল ওরফে কাইল¬্যা রুহুল(৩০) নিহত হওয়ার পর তার সমগোত্রীয় শীর্ষ চার মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপণে চলে গেছে।
ওই এলাকার আত্মগোপণে চলে যাওয়া শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন, পাইকরা ইউনিয়নের পাইকরা গ্রামের কুষা খান ওরফে রবি খানের ছেলে সাগর আহাম্মেদ খান ওরফে শামীম খান(৩৫), গোলড়া গ্রামের মৃত ফজু মিয়ার ছেলে কায়ছার(৩০), মমিন(২৯) এবং পাশের মৌবাড়ি গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে আল-আমিন(৩০)।
স্থানীয়রা জানায়, পাইকরা ইউনিয়নের পাইকরা, হাসড়া, মুনটিয়া, ছুনুটিয়া, গোলড়া, ছাতিহাটি, মৌবাড়ি, জোয়াইর, বালিয়াটা, বানকিনা, কালোহা, খরশিলা, কোনাবাড়ি, শিহরাইল; সহদেবপুর ইউনিয়নের পৌজান, বানিয়াফৈর, ভুক্তা, চিনামুড়ার কিছু অংশ; কোকডহরা ইউনিয়নের কোকডহরা, উৎরাইল, বলধি, পোষণা; বল্লা ইউনিয়নের রামপুর, কাজিবাড়ি, কামান্না; বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ফুলকী, খাটরা, তিরঞ্চ, আইসড়া, ময়থা, নেধার, যশিহাটি, একঢালা এলাকায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করেছে শীর্ষ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে কাইল্যা রুহুল শনিবার র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর তাদের কর্মকান্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা মুখরোচক কথাবার্তা বেড়িয়ে আসছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানায়, উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় এমপি’র ভাই শরীফ হাজারির নেতৃত্বে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে নানা কর্মকান্ড পরিচালিত করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। টাঙ্গাইল শহর, বাসাইল, সখীপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা মোটরসাইকেলযোগে উল্লেখিত এলাকায় এসে ইয়াবা-ফেনসিডিল কিনে নিয়ে সেবন করতো। টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজ গেট থেকে বল্লাগামী যানবাহনের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছে।
পাইকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাদ হোসেন জানান, র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী রুহুল নিহত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বিষয়ে তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বহুবার উত্থাপন করেছেন। সময়ে সময়ে ২-১জন মাদকসেবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বড় ব্যবসায়ীরা সব সময়ই অধরা থেকেছে। সরকার দলীয় এক এমপির ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে মাদকের ব্যবসা চালানোর ফলে বড় বড় ব্যবসায়ীদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহত রুহুলের সহযোগী আরো চার মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে আত্মগোপণে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী লোকেরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান তালুকদার গেন্দা গেদার ছেলে মাদক দ্রব্য আইনের একুশ মামলার আন্তজেলা মাদক সম্রাট মিনহাজ উদ্দিন (40) এখনও ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, মাদক সম্রাট মিনহাজকে পেলে আটক করে পুলিশে হন্তান্তর করা হবে। মাদক সম্রাট মিনহাজ আত্নগোপন থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে তার সহযোগিদের দিয়ে অবাদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ও সর্ব স্তরের মানুষ মিনহাজকে অবিলম্বে আটকের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

পরিচিতি ইব্রাহীম ভূইয়া

এটাও চেক করতে পারেন

টাঙ্গাইল ক্যাপসুল মার্কেটের পাশে অবৈধ ভাবে বসানো ফুচকা ও ফাস্টফুডের দোকান উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল শহরের অবস্থিত ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *