নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল জেলার সড়কপথ গুলোতে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে ঘটছে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা। থানায় নথিভুক্ত মামলা থেকে জানা যায়, গত ১ বছরে জেলায় ৬৩টি দুর্ঘটনায় ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছে। তবে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় যে থানায় মামলা হয়েছে, তা বলা যায় না। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) টাঙ্গাইল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ জানুয়ারি মাস থেকে বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১’শ ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৪০ জন।
এসব দুর্ঘটনার পেছনে মহাসড়কে অনিয়ম থাকাকেই দায়ী করেছেন লোকজন। মহাসড়কগুলোতে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, উল্টোপথে যান চলাচল, নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলোর অবাধ চলাচল, ফিটনেস বিহীন যান চলাচল, রাস্তা পারাপারে পথচারী-সেতু না থাকা, ট্রাকে ও বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন, পাল্লা দিয়ে গাড়ী চালানো, অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণহীন মোটরবাইক চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে ওভারটেকিং, রাস্তার উপরে গাড়ী পার্ক করে রাখাসহ বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
আর ২০১৮-এর জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৪টি। এতে নিহত হয়েছেন ৪৪ জন এবং আহত ১২৭ জন। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে প্রায় ৩ গুণ। তবে এই সংখ্যা শুধু থানায় মামলা করার সূত্রে লিপিবদ্ধ করা। প্রকৃত দুর্ঘটনার হিসাব বের করা সম্ভব হলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ টাঙ্গাইল সার্কেলের মোটরযান সহকারী পরিদর্শক মো. আবু নাইম।
জেলায় দুর্ঘটনা যেভাবে বাড়ছে তা সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ সেভাবে কুলিয়ে উঠতে পাচ্ছেন না। বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণে এসব দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া বড়মনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে সরকারের নিরাপদ সড়ক আইন ২০১৯ আইনটি কার্যকর করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করেন তিনি। তবে বিআরটিএ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবু নাইম দাবি করেন, তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। সড়কে আইন রোধে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হচ্ছে না ।


