লোকাল নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী সালমা আক্তার (১৭) তার প্রেমিক ডিগ্রিতে পড়ুয়া নাজমুল হাসান নামের এক ছাত্রকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সালমা উপজেলার কুরুয়া গ্রামের অটো-ভ্যান চালক মো. সাইম উদ্দিনের মেয়ে। সে লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নাজমুল ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের দিন-মজুর মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। সে নিকরাইল শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র।

সম্প্রতি গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সালমা তার প্রেমিক নাজমুলকে মোবাইল ফোন করে তাদের বাড়িতে আসার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে নাজমুল কে নিকরাইল বাজারে ডেকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই সন্ধ্যায় মেয়ের মা-বাবা ও স্থানীয় মেম্বারসহ মাতাব্বরদের নিয়ে নাজমুলদের বাড়িতে আতঙ্ক ও হয়রানি করে। পরে সন্ধ্যা রাতেই ছেলে পক্ষ থেকে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার মাতাব্বররা এসে মিমাংসার চেষ্টা করে ছেলে-মেয়েকে ৭ দিনের মধ্যে বের করার প্রস্তাব উঠে আসে। সালিশ বৈঠকে ৩ দিনের সময় বেঁধে ছেলের বাবাকে। অনেক খোঁজাখুজি করে ছেলে পক্ষের লোকজন গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে উভয়ইকেই খুঁজে বের করে নিয়ে আসা হয়।
জানা গেছে, নাজমুলের বাবা উপজেলার কয়েড়া গ্রামে বসবাস করে আসছেন। নামজুল তার নানার বাড়িতে না থেকে ছোট বেলা থেকেই দাদার বাড়িতে পড়াশোনা করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়া সময়ে নাজমুল নানার বাড়িতে চলে এসে লেখা পড়া করে আসছেন। সম্প্রতি, ১০ শ্রেণিতে থেকে নাজমুল আত্মীয়’র সুবাধে সালমাদের বাড়িতে মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করতেন। এর মধ্যেই দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক দু’পরিবারের কেউও মেনে নিতে রাজি হয়নি। এদিকে, সামলার পরিবার থেকে সালমা কে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সালমা রাজি না হলে তার মা বকাঝকা করে মারধর করে সালমাকে। এ ক্ষোভে রাগ করে গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নাজমুলের খোঁজে নিকরাইল বাজারে আসে। সালমা নাজমুলের বাড়ি না চিনলে তাকে ফোন করে এগিয়ে আসতে বলে। পরে নাজমুল নিকরাইল বাজারে গেলে প্রেমিকা সালমা তাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে উভয়ই আত্মগোপনে থাকেন।
এ ঘটনায় কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন বলেন, অপহৃরণের অভিযোগ এনে মেয়ের মা আসমানী বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় বিয়ে আইন সম্মত নয়। সুষ্ঠ সমাধানের জন্য তাদের উভয়কে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


